
[ আর্টিকেলটি পড়া হয়েছে 85 বার ]
Category : Heart,
প্রসঙ্গ - হার্ট ব্লক রোগীদের রিং পরানো বা বাইপাস সার্জারি করার পর তারা কেমন আছেন? হাসপাতালের হার্ট ইউনিট এর করিডোরে হার্টের সমস্যা নিয়ে আসা রোগী ও তাদের স্বজনদের সাথে একান্ত কিছু কথাবার্তা।
রোগী - ১
বয়স ১৬ বছর। খালি গায়ে অজ্ঞান অবস্থায় একটি ছেলেকে নিয়ে আসা হল। ছেলেটির দেহ অত্যন্ত স্থুল দেখতে প্রায় ২৭-২৮ বছর বয়স্ক একজন মানুষের মত। প্রায় এক বছর আগে ছেলেটির হার্ট ব্লক ধরা পড়ে। ছেলের বাবা চিকিৎসার জন্য ভারতের দেবী শেঠির কাছে নিয়ে যান সেখানে বাইপাস সার্জারি করা হয় গত ৪ মাস আগে অনেক টাকা খরচ করে। ( খরচ জানতে পারিনি)। গত কয়েকদিন আগে ছেলেটি বুক ব্যাথা অনুভব করে। বাসায় অভিভাবক না থাকায় কেউ গুরুত্ব সহকারে ছেলেটিকে হাসপাতালে নিয়ে আসেনি। তিন থেকে চার দিন পর ছেলের বাবা বাড়িতে এলে বুকের ব্যথার অবস্থা বুঝতে পেরে আজ হাসপাতালে নিয়ে আসেন। বর্তমানে অবস্থা হল ছেলেটি অজ্ঞান হয়ে আছে। চিকিৎসক বলছেন ছেলেটির বেঁচে থাকার সম্ভাবনা কম, অনেক দেরি হয়ে গেছে। প্রায় এক ঘন্টা ধরে অনেক চেষ্টার পরেও বাঁচানো গেল না। অবশেষে ছেলেটির মৃতদেহ নিয়ে গেলেন তার পরিবার।
রোগী - ২
বয়স ৫৫, এ পর্যন্ত ৩ বার হার্টে রিং পরানো হয়েছে। প্রতিবারে গড়ে ২+ লাখ খরচ হচ্ছে। কয়েক মাস পরপর ওনার রিং ব্লক হয়ে যাচ্ছে তাই এবার ৩+ লাখ খরচ করে বেলুন পরানো হয়েছে। প্রতি মাসে ১০-১২ হাজার টাকার ওষুধ খাওয়ানো হচ্ছে চিকিৎসক বলেছেন এরপরও যদি কাজ না হয় বাইপাস সার্জারি প্রয়োজন হতে পারে। রোগীর ভাতিজা চাচীকে পরামর্শ দিলেন, এরপরেরবার, ভারতে নিয়ে চিকিৎসা করাতে। ৩ মাসের ঔষধ দেয়া হয়। ৩ মাস পরপর গিয়ে চেকাপ করে ঔষধ নিয়ে আসলেই হবে। ভারতে CMC হাসপাতালে অনেক ভালো চিকিৎসা হয়। রোগীর চাচি জানালেন, কিছুক্ষণ আগের মারা যাওয়া ছেলেটিকে ভারতের দেবি শেঠীকে দিয়ে বাইপাস সার্জারি করে আনা হয়েছে, ৪ মাস আগে। ছেলেটাকে তো বাচানো গেল না। ভাতিজা জানালো, আরে ধুর, দেবী শেঠী তো, হার্টের সার্জনই নয়।
আমি তখনই, গুগল সার্চ করে দেখলাম, ছেলেটা আসলে, হার্টের সার্জন ডা: দেবী শেঠীকে চিনে না।
রোগী - ৩
একজন সৌদি প্রবাসী তার হার্টের পরীক্ষার জন্য ঢাকায় আসলেন। হার্টে ব্লক ধরা পড়েছে অনেক বেশি। এমতাবস্থায় তাকে রিং পরানো হবে না, সরাসরি বাইপাস সার্জারির জন্য পরামর্শ দেওয়া হলো। রোগীর জন্য ৬ ব্যাগ রক্ত এবং চার লাখ টাকার অপারেশনের ব্যবস্থা করা হলো। এরপরেও প্রতি মাসে 10 থেকে 12 হাজার টাকার ওষুধ লাগবে।
রোগী - ৪
একজন নেভি অফিসার, যেহেতু ডিফেন্সে জব করেছেন শারীরিক ফিটনেস খুবই ভালো, শরীরে মেদ নেই, স্লিম ফিগার। তবে উনি প্রচুর ধুমপান করতেন। রিটায়ার্ড এর কয়েক বছর পর হার্টের সমস্যা দেখা দেয়। ঢাকা CMH হাসপাতালে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক জানালেন উনার হার্টে ব্লক আছে সিদ্ধান্ত হল ওপেন হার্ট সার্জারি করা হবে। সার্জারি করার একদিন পর তিনি আইসিতে মারা গেলেন।
রোগী - ৫
মধ্যবিত্ত পরিবারের একজন নারী বেশ কয়েক বছর আগে হার্টে ব্লক জনিত কারণে রিং পরিয়েছেন। রিং পরানোর পর থেকে প্রতিমাসে কয়েক হাজার টাকার ওষুধ সেবন করতে হয়। একটা নির্দিষ্ট সময় পরপর চিকিৎসকের চেকআপে যেতে হতো। প্রতিবারে অনেক টাকা টেস্ট। কয়েক বছর এভাবে চলার পর বর্তমানে এখন টাকার অভাবে, টেস্ট করাতে পারছে না এমনকি ওষুধ খাওয়ার মত অবস্থা নেই। হার্টে রিং পরানোর পর থেকেই হার্টের মধ্যে সারাক্ষণ পিন পিন করে একটা মৃদু ব্যথা চলতে থাকে। যতক্ষণ জেগে থাকেন বেশিরভাগ সময় তিনি বুঝতে পারেন সে ব্যথাটি। চিকিৎসককে জানালে, ব্যাথানাশক ওষুধ খেতে বলেন।
সকাল আটটা থেকে রাত আটটা পর্যন্ত বারো ঘন্টা সময় অনেক রোগী ও স্বজনদের সাথে কথা বললাম। সারসংক্ষেপ হলো হার্টে ব্লক ধরা পড়লে এলোপ্যাথিতে এর চিকিৎসা হলো হার্টের রিং পরানো বা বাইপাস সার্জারি। রোগীর অবস্থাভভেদে এক থেকে একাধিক রিং পরানো হয়। রিং এ কাজ না হলে বেলুন পরানো হয়। তাতে কাজ না হলে বাইপাস সার্জারি অনেক রোগীর ক্ষেত্রে রিং পরানোর সময় পাওয়া যায় না, বাইপাস সার্জারি ছাড়া উপায় থাকে না।
রিং পরানো বা বাইপাস সার্জারির আগে বলা হয়, রিং পরালে বা বাইপাস সার্জারি করা হলে তিনি সুস্থ হয়ে যাবেন। পরে রোগীরা এক সময় বুঝতে পারেন যে, এত টাকা খরচ করে, রিং পরানো বা বাইপাস সার্জারি কোন স্থায়ী সমাধান বা চিকিৎসা নয়। রিং পরানো বা বাইপাস সার্জারি করার পর, সকল রোগী কে, মৃত্যুর আগ পর্যন্ত ওষুধ খেতে হচ্ছে। আবার যারা বাইপাস অপারেশন করছেন তাদের ক্ষেত্রে জটিলতা আরো বেশি থেকে যায় অনেকেই সামান্য বুকের ব্যথা দেখিয়ে মৃত্যুবরণ করছেন।
01711201018 Bkash এ 2050 Taka সার্ভিস চার্জ ( ভিজিটিং ফী, ২৪ ঘন্টা সার্বক্ষণিক অনলাইন সাপোর্ট সার্ভিস, হট লাইন সাপোর্ট সার্ভিস ) বাবদ পে করে 01711201018 WhatsApp এ মেসেজ দিন। আপনার অনলাইন এপয়েন্টমেন্ট এর জন্য সকল রিপোর্ট এর ছবি দিন। কোন টেস্ট দরকার হলে করতে দেয়া হবে। এরপর সকল রিপোর্ট সহ সরাসরি চেম্বারে বা অনলাইনে রোগী দেখান। কুরিয়ারে ঔষধ পাঠিয়ে দেয়া হবে।
সার্ভিস চার্জ শুধু মাত্র ১ বার নেয়া হয়। ঔষধ খরচ আলাদা।
সরাসরি চেম্বারঃ অব্যর্থ হোমিও, সুফিয়া বেকারি মোড়, সাভার, ঢাকা।
অনলাইন চেম্বারঃ 01711201018 WhatsApp