[ আর্টিকেলটি পড়া হয়েছে 75 বার ]
Category : Homeopathy
হোমিওপ্যাথি ও এলোপ্যাথি র বেসিক পার্থক্য কি?
এলোপ্যাথি ও হোমিওপ্যাথি দুটি আলাদা ও স্বতন্ত্র প্রটোকল। এলোপ্যাথি প্রটোকল হোমিওপ্যাথি প্রটোকল এর সাথে সাংঘর্ষিক। এলোপ্যাথি প্রটোকলে হোমিওপ্যাথি কে বা হোমিওপ্যাথি প্রটোকলে এলোপ্যাথি কে জাজ করা সম্পূর্ণ ভুল হবে।
এলোপ্যাথি ঔষধ এর ফার্মা ডেটা প্রুভিং প্রটোকল হোমিওপ্যাথি ঔষধ এর ফার্মা ডেটা থেকে সম্পূর্ণ আলাদা।
এ ব্যাপারে বিস্তারিত জানতে আপনি Organon of medicine নামক হোমিওপ্যাথি নিয়মনীতি বইটি পড়ে দেখতে পারেন।
এবার আসেন পার্থক্য কি?
১। ড্রাগ ম্যাকানিজম এর পার্থক্য
২। ড্রাগ ক্লিনিক্যাল প্রুভিং এর পার্থক্য
৩। রোগীর জন্য ঔষধ নির্বাচন পদ্ধতির পার্থক্য
৪। ঔষধের মাত্রা শক্তির পার্থক্য
৫। রোগী চিত্র পার্থক্য
১। ড্রাগ ম্যাকানিজম এর পার্থক্য কি?
=>
এলোপ্যাথি ঔষধ এর ম্যাকানিজম --
অ্যালোপ্যাথিক ওষুধের ড্রাগ ম্যাকানিজম বা কার্যপ্রণালী হলো শরীরের কোষ, এনজাইম বা রিসিপ্টরের সাথে রাসায়নিক বিক্রিয়া করে রোগের লক্ষণ কমানো বা রোগ সৃষ্টকারী জীবাণু ধ্বংস করা।
হোমিওপ্যাথি ঔষধ এর ড্রাগ ম্যাকানিজম --
হোমিওপ্যাথি ওষুধের মূল মেকানিজম বা কার্যপ্রণালী অ্যালোপ্যাথিক ওষুধের মতো সরাসরি কোনো রাসায়নিক বা জৈবিক বিক্রিয়া (যেমন: কোষের রিসেপ্টর ব্লক করা বা জীবাণু ধ্বংস করা) নয়।
সদৃশ নীতি (Like Cures Like): "ল্যাটিন ভাষায় একে বলা হয় Similia Similibus Curentur"। এর অর্থ হলো—একটি সুস্থ মানুষের শরীরে যে উপাদানটি কোনো রোগ বা লক্ষণের সৃষ্টি করতে পারে, সেই উপাদানটিই অতি সূক্ষ্ম মাত্রায় দিলে অসুস্থ মানুষের সেই রোগ নিরাময় হয়। উদাহরণস্বরূপ, পেঁয়াজ কাটলে চোখ-নাক দিয়ে জল পড়ে। তাই পেঁয়াজ থেকে তৈরি ওষুধ (Allium Cepa) সর্দি-কাশির চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়।
অর্থাৎ, হোমিওপ্যাথি ঔষধ শুধুমাত্র লক্ষণের উপর ভিত্তি করব কাজ করে। লক্ষণ ম্যাচিং হলে, রোগীর দেহে কাজ হবে, ম্যাচিং না হলে কাজ হবে না।
২। ড্রাগ ক্লিনিক্যাল প্রুভিং এর পার্থক্য কি?
=> এলোপ্যাথি চিকিৎসক নিজে ড্রাগ প্রুভিং এর সুযোগ নাই। ঔষধের নির্দেশনা অনুসারে প্রয়োগ করতে হয়।
হোমিওপ্যাথি চিকিৎসক কে প্রতিটি রোগীর জন্য লক্ষণ মিলিয়ে প্রতিবারেই ড্রাগ প্রুভিং করতে হয়।
এলোপ্যাথি ঔষধ সমূহ প্রানী দেহে প্রুভিং করে জার্নাল হয়ে ফার্মা কোম্পানি থেকে সরাসরি চিকিৎসক এর চেম্বার থেকে ফার্মেসি হয়ে রোগীর দেহে প্রবেশ করে যা পরবর্তী কয়েক বছর পর ভুল প্রমাণিত হতে পারে। ফলে নানা জটিলতা ও রিয়াকশনে পরে উক্ত ঔষধ বন্ধ হয়ে যেতে পারে।
আর হোমিওপ্যাথি ঔষধ সমূহ রিসার্চার চিকিৎসকদের মাধ্যমে সরাসরি রোগী দেহে প্রুভিং করে সরাসরি আমাদের মেটেরিয়া মেডিকা ও রেপার্টরীতে লিপিবদ্ধ হয়ে থাকে, যা পরবর্তীতে অগণিত চিকিৎসক তাদের চেম্বারে ক্রসচেক করে দেখা হয় এরপর আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির মাধ্যমে আমাদের ক্লিনিক্যাল প্রুভিং হিসেবে স্বীকৃতি পায়। এবং এভাবেই গত ২০০ বছরে আমাদের সকল প্রুভিং এখনো কার্যকর, কোনটি ভুল প্রমাণিত হয় নাই বা হচ্ছে না।
যেমন ধরেন, জিহ্বা সাদা, প্রচুর পিপাসা প্রচুর পানি পান কিন্তু কোষ্ঠকাঠিন্য প্রচুর। এই লক্ষণে একটি মাত্র ঔষধ ব্রায়োনিয়া।
যা গত ২০০ বছর ধরে এই সিম্পটম এ কার্যকর।
অর্থাৎ, এলোপ্যাথি হল ক্লিনিক্যাল জার্নাল বেজড। হোমিওপ্যাথি হল প্রুভিং বেজড।
৩। রোগীর জন্য ঔষধ নির্বাচন পদ্ধতির পার্থক্য
=>
এলোপ্যাথি রোগ ভিত্তিক নির্দিষ্ট ঔষধ প্রয়োগ করতে হয়।
হোমিওপ্যাথি তে রোগীর সিম্পটম ভিত্তিক ঔষধ প্রয়োগ করতে হয়।
হোমিওপ্যাথি রোগীর চিকিৎসা আর এলোপ্যাথি রোগের চিকিৎসা করে।
হোমিওপ্যাথি সদৃশ বিধান মতে আর এলোপ্যাথি বিসদৃশ বিধানে চিকিৎসা হয়।
যেমন - ১০ জন জ্বরের রোগী এলোপ্যাথি তে চিকিৎসা নিলে ১০ জনকে প্রায় একই চিকিৎসা দেয়া হবে, নাপা ও এন্টিবায়োটিক।
হোমিওপ্যাথি তে ১০ জন জ্বরের রোগী আসলে প্রত্যেকের জন্য স্বতন্ত্র ঔষধ নির্বাচন করতে হবে। একজনের সাথে আরেকজনের ঔষধের মিল থাকবে না। কোটি কোটি মানুষের জন্য একই ভেকসিন প্রয়োগ করা হয়।
এলোপ্যাথিঃ রোগীর জ্বরের কারণে দেহের তাপমাত্রা কমানোর জন্য প্যারাসিটামল যুক্ত ঔষধ, ইনফেকশন জনিত কারণে এন্টিবায়োটিক যেমন সিপ্রোফ্লক্সাসিন বা সেফিক্সিম যুক্ত ঔষধ দেয়া হল।
হোমিওপ্যাথিঃ রোগীর দেহ-মনের অবস্থা যদি
জ্বর + ছটফটে, অস্থির ও মৃত্যুভীতি থাকে --- একোনাইট,
জ্বর + হঠাৎ করে জ্বর আসে যায় --- বেলেডোনা,
জ্বর + পিপাসা নাই, চুপচাপ, ডাকলে বিরক্ত --- জেলসিমিয়াম,
জ্বর + চুপচাপ থাকে, নড়াচড়া ভাল লাগে না, জ্বর বাড়ে, খুবই শুষ্কতা, প্রচুর পানি খায় --- ব্রায়োনিয়া
জ্বর + শরীর ব্যথা, টিপলে খুব আরাম পায় --- রাসটক্স
ইত্যাদি আরো অনেক লক্ষন আছে। যাই হোক সব মিলিয়ে রোগীর সাথে যে ঔষধের মিল পাওয়া গেল, এখন এই একটি মাত্র ঔষধ দেয়া হবে।
আবার উদাহরণ দেয়া যাক -
মাথা ব্যথায় - এলোপ্যাথি - প্যারাসিটামল, টাফনিল ইত্যাদি।
হোমিওপ্যাথি তে,
১ম রোগী - খুব মাথা ব্যথা + চোখ লাল - বেল
২য় রোগী - খুব মাথা ব্যথা + কোষ্ঠ - ব্রায়ো
৩য় রোগী - খুব মাথা ব্যথা + রাত জাগা - নাক্স
৪র্থ রোগী - খুব মাথা ব্যথা + অধিক লেখা পড়া - কেলি
৫ম রোগী - জরায়ু মুখ বন্ধ - কেলি
৪ জন মাথাব্যথা রোগীকে একেক লক্ষণে একেক ঔষধ আবার যে ঔষধ ৪র্থ রোগীর মাথাব্যথায় দেয়া হল, একই ঔষধ অন্য রোগীর প্রসব সমস্যায় দেয়া হল।
অর্থাৎ, অন্যান্য প্যাথিতে একই রোগের জন্য সকল রোগীকে একই ঔষধ দিয়ে চিকিৎসা করা হয়। এটকে বলে রোগ নির্ভর চিকিৎসা।
আর হোমিওপ্যাথি তে একই রোগে সুনির্দিষ্ট ঔষধ নেই, ভিন্ন ভিন্ন রোগীকে লক্ষণ ভিত্তিক ভিন্ন ভিন্ন ঔষধ দিতে হয়। এটাকে বলে লক্ষণ ভিত্তিক রোগীর চিকিৎসা।
৪। ঔষধের মাত্রা শক্তির পার্থক্য
=>
এলোপ্যাথিতে একই পাওয়ারের ঔষধ বছরের পর বছর চলতে থাকে।
হোমিওপ্যাথি তে রোগ ও রোগীর অবস্থা অনুসারে ঔষধ এর মাত্রা ও শক্তি ভিন্ন ভিন্ন হবে। একই শক্তির ঔষধ দীর্ঘদিন দেয়া যায় না। শক্তি পরিবর্তন নিয়মে পরিবর্তিত শক্তিতে প্রয়োগ করতে হয়।
৫। রোগী চিত্র পার্থক্য
=> এলোপ্যাথি তে হোমিওপ্যাথির মত কোন প্রকার রোগী চিত্র নাই।
রোগী-চিত্র কি? ঔষধ-চিত্র বা ড্রাগ-পিকচার কি?
রোগীর কষ্টকর লক্ষণ
মানসিক অবস্থা
কষ্টের কারণ
কষ্টের বৃদ্ধি
কষ্টের উপশম
পরিবেশের সাথে সম্পর্ক
পারবারিক বা বংশগত ইতিহাসের প্রভাব
রোগীর আচার আচরণ
পছন্দ, অপছন্দ
ইচ্ছা, অনিচ্ছা
ইত্যাদি আরো বেশ কিছু পয়েন্ট,
সুশৃংখলভাবে লিপিবদ্ধ করলে, রোগীর যে চিত্র পাওয়া যায়, তাকে বলে রোগী-চিত্র।
যে কোন রেমেডি প্রুভিং এর সময় প্রুভার এর দেহে,
কষ্টকর লক্ষণ
মানসিক অবস্থা
কষ্টের কারণ
কষ্টের বৃদ্ধি
কষ্টের উপশম
পরিবেশের সাথে সম্পর্ক
রোগীর আচার আচরণ
পছন্দ, অপছন্দ
ইচ্ছা, অনিচ্ছা
ইত্যাদি আরো বেশ কিছু পয়েন্ট,
প্রকাশ পায়, এদেরকে সুশৃংখলভাবে লিপিবদ্ধ করলে, ঔষধের যে চিত্র পাওয়া যায় তাকে ঔষধ-চিত্র বা ড্রাগ-পিকচার বলে।
ধন্যবাদ।
01711201018 Bkash এ 2050 Taka সার্ভিস চার্জ ( ভিজিটিং ফী, ২৪ ঘন্টা সার্বক্ষণিক অনলাইন সাপোর্ট সার্ভিস, হট লাইন সাপোর্ট সার্ভিস ) বাবদ পে করে 01711201018 WhatsApp এ মেসেজ দিন। আপনার অনলাইন এপয়েন্টমেন্ট এর জন্য সকল রিপোর্ট এর ছবি দিন। কোন টেস্ট দরকার হলে করতে দেয়া হবে। এরপর সকল রিপোর্ট সহ সরাসরি চেম্বারে বা অনলাইনে রোগী দেখান। কুরিয়ারে ঔষধ পাঠিয়ে দেয়া হবে।
সার্ভিস চার্জ শুধু মাত্র ১ বার নেয়া হয়। ঔষধ খরচ আলাদা।
সরাসরি চেম্বারঃ অব্যর্থ হোমিও, সুফিয়া বেকারি মোড়, সাভার, ঢাকা।
অনলাইন চেম্বারঃ 01711201018 WhatsApp