
[ আর্টিকেলটি পড়া হয়েছে 78 বার ]
Category : Parenting
প্যারেন্টিং
একটি শিশু জন্মের পর সকল বাবা-মা চায় তার সন্তান অনেক বড় ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, হাফেজ, মাওলানা, ক্বারী, বড় আলেম ইত্যাদি পদবী নিয়ে উচ্চশিক্ষিত হবেন এবং জীবনে আর্থিক উপার্জনে সফল হবেন। এবং একজন বাবা চাকুরি বা ব্যবসা করে অনেক মেহনত করে মাথার ঘাম পায়ে ফেলে চেষ্টা করে যায় সন্তানকে মানুষ করার জন্য যেন অন্তত তার সন্তানকে তারমত কষ্ট করতে না হয়।
কিন্তু বাস্তবিক অর্থে ৫০% শিশু ঝরে পড়ে SSC বা দাখিল পরীক্ষার আগে বা পরে। এরপর HSC তে ৪০% ঝরে পড়ে এবং মাত্র ১০% অনার্স বা সমমান পাশ করতে পারলেও পরবর্তী উচ্চশিক্ষা বা জীবনে ঝরে পড়ে আরো অনেকেই। খুব সামান্য অংশই সফলতার সাথে শিক্ষা সমাপন করতে পারলেও এরপর শুরু হয় চাকুরী বা ভিন্ন কোন জীবিকা নিয়ে জীবন যুদ্ধ। ততদিনে পরিবারের উপার্জনক্ষম একমাত্র বাবা এবং ঘরের অমূল্য সেবিকা মা বয়সের ভারে অসুখে জর্জরিত হয়ে পড়ে এবং অনেক ক্ষেত্রেই আর্থিক দিক দিয়ে সংসারে টানাপোড়ন শুরু হয়। বাবা যেই কষ্ট করতে করতে আজ নিঃশ্বেষ, সেই কষ্টই আবার নতুন করে শুরু হয় সন্তানের জীবনে। আমাদের সন্তানেরা স্কুলের খাতায় বানরের তৈলাক্ত বাঁশের অংক সমাধান করতে পারলেও নিজের জীবনের তৈলাক্ত পথে বার বার পিছিয়ে পড়ে।
এতক্ষন কথা গুলো বলছিলাম বর্তমান সামাজিক মধ্যবিত্ত ও নিন্মবিত্ত পরিবারের অবস্থার প্রেক্ষাপট। যাদের আর্থিক অবস্থা খুব ভাল তাদের কথা ভিন্ন। ছেলে মেয়ে লেখাপড়া করে খুব ভাল করতে না পারলেও বিভিন্ন প্রাইভেট প্রতিষ্ঠান থেকে উচ্চশিক্ষার ডিগ্রী নিয়ে ব্যবসা বা চাকুরী করছে।
আমার আজকের এই লিখা সন্তানদের ঝরে পড়া এবং বাবা-মায়ের প্যারেন্টিং এর উপর।
আপনি পরিশ্রম করে উপার্জন করে সন্তানকে স্কুল মাদ্রাসায় পড়াচ্ছেন। এবং স্বপ্ন দেখছেন সন্তানের সফলতা। হ্যাঁ, আপনার সন্তান অবশ্যই পারবে জীবনে সফল হতে। তার জন্য দরকার একটু পরিচর্যা।
একটু ভাবুন তো, আপনি একটি গাছ রোপন করলেন এবার ভাবলেন পরিচর্যা করা দরকার। তার চারপাশে বেড়া দিলেন যেন কেউ ক্ষতি না করে, এরপর একজন মালি রাখলেন টাকা দিয়ে গাছের গোড়ায় ২ বেলা পানি দেবার জন্য। কিন্তু গাছের যত্ন নিতে উক্ত মালিকে কোন নিড়ানি দিলেন না আগাছা পরিষ্কার করতে। গাছের গোড়ায় জৈব সার দেবার এর কোন ব্যবস্থা করলেন না। পোকা ও রোগ থেকে বাচাতে কোন ব্যবস্থা নিলেন না। ফলে, গাছের পুষ্টির অভাব হল, আর যেটুকু মাটিতে ছিল সেটাও খেয়ে নিল আগাছায়। এইবার আপনার এই গাছটি অপুষ্টি আর পোকামাকড়ের আক্রমনের শিকার হল। এ অবস্থায় গাছটি হয়ত মরে যাবে আর বেঁচে থাকলেও ভাল ফলন হবে না।
ঠিক তেমনি শিক্ষকগণ একজন মালীর ভূমিকায় শিক্ষার্থীদের জীবন গড়ায় ভূমিকা রাখেন। এবং অভিভাবক সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহন করে সন্তানের জীবন পরিচর্যায় ভুমিকায় রাখেন।
বাচ্চা যতক্ষণ স্কুলে থাকে ততক্ষণ শিক্ষকদের তত্ত্বাবধানে থাকে একটা নিয়মের মধ্যে। আর বাকি সম্পূর্ন সময় সে কোথায় কিভাবে কি করে সেই সম্পর্কে অভিভাবকদের সচেতনতা জরুরি। দরকার পরিচর্যা।
এই পরিচর্যার মধ্যে ৪ টি ভাগ আছে
১। মানসিক পরিচর্যা
২। শারিরীক পরিচর্যা
৩। পারিবারিক পরিচর্যা
৪। সামাজিক পরিচর্যা
৫। পড়াশুনার পরিচর্যা
৬। নৈতিক পরিচর্যা।
১। মানসিক পরিচর্যাঃ
১। বাচ্চার সাথে মার্জিত ব্যবহার করুন। আপনি যেমন ব্যবহার করবেন সে তাই শিখবে। বাচ্চাদের ধমক দিবেন না। মারবেন না।
২। আপনার বাচ্চার মানসিক বিকাশে তার সাথে বাবা-মায়ের সময় দিতে হবে। তাকে বুঝার চেষ্টা করুন। এবং তাকে আপনার আর্থিক অবস্থা সম্পর্কে বুঝাতে চেষ্টা করুন। যেন তার আবদার আপনার আর্থিক সীমা কে অতিক্রম না করে।
৩। বন্ধুসুলভ আচরণ করুন। ভয় নয়, ভালবাসা দিয়ে মন জয় করুন। যেন আপনার কাছে তার মনের সব কিছু শেয়ার করে। তাহলেই আপনি তার ব্যাপারে বুঝবেন।
২। শারিরীক পরিচর্যাঃ
১। বাচ্চাকে মারবেন না। আঘাত মানসিক সমস্যা তৈরী করে।
২। সামর্থ্যের মধ্যে ভাল খাবারের ব্যবস্থা করুন। দুধ, ডিম, ডাল, সবজি খেতে দিন।
৩। পরিষ্কার কাপড় ও পরিচ্ছন্ন পরিবেশে রাখুন।
৪। উপযুক্ত বয়সে তাকে উপযুক্ত শারিরীক শিক্ষা দিন। তা না হলে সে বন্ধু বা অন্য মানুষ থেকে ভুল শিক্ষা পেতে পারে।
৩। পারিবারিক পরিচর্যাঃ
১। পরিবারের অন্যান্য সদস্য, কাজের লোক এবং আত্মীয় স্বজন আপনার সন্তানের সাথে কেমন ব্যবহার করে তা খেয়াল রাখুন। তাদের খারাপ আচরন এবং যে কোন প্রকার টিজিং বা নিপীড়ন বা অস্বাভাবিক আচরণ চোখে পড়লে সন্তানকে সচেতন করুন । শিশুদের নির্যাতন শুরু হয় আপনারই ঘরে লুকিয়ে থাকা মানসিক বিকারগ্রস্থ আত্মীয়দের মাধ্যমে। শিশুরা এইসব আত্মীয় দ্বারা নানা রকম নির্যাতনের শিকার হয়। আপনার চোখে আত্মীয়দের সাথে আপনার শিশুর ভিন্ন কোন আচরণ চোখে পড়লে, উক্ত ব্যক্তিকে হুশিয়ারী করুন প্রয়োজনে আপনার বাসায় উক্ত ব্যক্তির প্রবেশ কমিয়ে দিন বা বন্ধ করুন, যেহেতু এইখানে আপনার সন্তানের জীবন আগে। তাই কোন ছাড় দেয়া হবে না।
২। আপনার সন্তান মোবাইল ব্যবহার করছে । একজন কম বয়সী শিক্ষার্থী বিশেশ করে SSC পরীক্ষার আগে তার মোবাইল এর কোন দরকার নেই। কিন্তু সন্তানের সাথে যোগাযোগের অযুহাতে অনেক অভিভাবক তাদের মোবাইল দিচ্ছেন। আর সন্তানেরা সেই মোবাইল দিয়ে ফেসবুকে বন্ধু বানাচ্ছে, চেনা-অচেনা অনেকের সাথে সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ছে। এবং তাদের পড়াশূনার মূল্যবান সময় নষ্ট করছে।
৩। অনেক অভিভাবক সন্তানদের কম্পিউটার কিনে দিচ্ছেন শিখার জন্য। সেখানে তারা ভাল কিছু শিখার পরিবর্তে গেম খেলছে আর এমন কিছু করছে যা আপনি চাইবেন না। তাই কম্পিউটারটি তার নিজের ঘরে না দিয়ে এমন স্থানে দিন যেন সে কি করছে আপনার চোখে পড়ে। এবং নির্দিষ্ট সময় ছাড়া কম্পিউটার ব্যবহার করে যেন পরার ক্ষতি না হয় খেয়াল রাখুন।
৪। সামাজিক পরিচর্যা
১। অনেকেই সন্তানকে বাসার বাহিরে যেতে দেন না বা আটকে রাখতে চান ফলে সুযোগ পেলে তারা লুকিয়ে এমন সব কাজ করে যা তার জন্য ক্ষতিকর এবং আপনি জানতেও পারেন না। তাই অতি বাড়াবাড়ি করে বেঁধে না রেখে, কিছুটা ছাড় দিন এবং আপনি পর্যবেক্ষণে থাকুন, সে কার কার সাথে মিশে ? কোথায় যায় ? কি করে ? তার সাথে বন্ধু হয়ে আপনিও তার সেই সব বন্ধুকে চিনে জেনে রাখুন।
২। বন্ধু বাছাই করতে আপনিও তাকে সাহায্য করুন। তার বন্ধুদের সম্পর্কে তার সাথে গল্প করুন। জানুন বুঝুন।
৩। তবে এইসব করতে গিয়ে কখনোই তার পিছনে পিছনে লুকিয়ে গিয়ে ধরা খাবেন না। বরং তার সাথে বন্ধু হয়ে আপনিও তার সাথে যেতে পারেন।
৪। অনেক মা-বাবা আছেন মেয়েকে নিজে স্কুলে নিয়ে আসা-যাওয়া করেন বাহির থেকে রক্ষার জন্য। অথচ মেয়ে ঘরের হোম-টিউটরের সাথে প্রেমে জড়িয়ে অনেক দূর। কী করবেন ভাবছেন ? আগেই বলেছি -- বন্ধুসুলভ আচরণ করুন। ভয় নয়, ভালবাসা দিয়ে মন জয় করুন। যেন আপনার কাছে তার মনের সব কিছু শেয়ার করে। তাহলেই আপনি তার ব্যাপারে বুঝবেন।
৫। পড়াশুনার পরিচর্যা
১। অনেকের বাচ্চা একটু চঞ্চল, কম পড়াশুনা করে অভিযোগ করেন। আপনার বাচ্চা পড়াশুনা যদি ঠিক মত পারে তাহলে তাকে সার্বক্ষণিক পড়ায় বসিয়ে রাখার দরকার নাই। পারিবারিক নানা কাজে ব্যস্ত রাখুন। গল্পের বই, ছবি আকা ইত্যাদিতে ব্যস্ত রাখুন।
২। চঞ্চল বাচ্চাদের মেধা ভাল তবে, বেশী চঞ্চল বাচ্চাদের ক্ষেত্রে মানসিক অস্থিরতা থাকে। তাই তাদের জন্য চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
৩। দূর্বল মেধার বাচ্চাদের জন্য চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
01711201018 Bkash এ 2050 Taka সার্ভিস চার্জ ( ভিজিটিং ফী, ২৪ ঘন্টা সার্বক্ষণিক অনলাইন সাপোর্ট সার্ভিস, হট লাইন সাপোর্ট সার্ভিস ) বাবদ পে করে 01711201018 WhatsApp এ মেসেজ দিন। আপনার অনলাইন এপয়েন্টমেন্ট এর জন্য সকল রিপোর্ট এর ছবি দিন। কোন টেস্ট দরকার হলে করতে দেয়া হবে। এরপর সকল রিপোর্ট সহ সরাসরি চেম্বারে বা অনলাইনে রোগী দেখান। কুরিয়ারে ঔষধ পাঠিয়ে দেয়া হবে।
সার্ভিস চার্জ শুধু মাত্র ১ বার নেয়া হয়। ঔষধ খরচ আলাদা।
সরাসরি চেম্বারঃ অব্যর্থ হোমিও, সুফিয়া বেকারি মোড়, সাভার, ঢাকা।
অনলাইন চেম্বারঃ 01711201018 WhatsApp