
[ আর্টিকেলটি পড়া হয়েছে 402 বার ]
Category : Cold Allergy, Tonsil, A to Z,
[ এই পোস্টে মেডিক্যাল টার্ম বাদ দিয়ে সাধারনের উপযোগী করে লিখা হয়েছে। ]
টনসিল কি ?
গলার দুই পার্শ্বে বাদামের মত দুটি গ্রন্থি আছে, একে টনসিল বলে । আমাদের মুখের গহ্বরের শেষপ্রান্ত এবং গলার শুরুর প্রান্তের সংযোগ স্থলে, ঠিক কান বরাবর ভিতরের দিকে গয়াল্র দুইপাশে দুটো গ্ল্যান্ড থাকে। এদের নাম টনসিল।
টনসিল এর কাজ কি ?
টনসিল দেহে পাহারাদার এর কাজ করে এবং দেহের বিভিন্ন কার্যক্রমে অবদান আছে। টনসিল দেহে রোগ জীবানু প্রবেশে বাধা প্রদান করে। টনসিল দুর্বল হলে রোগ জীবানু আক্রমণ করতে পারে এবং টনসিল শক্তিশালী হলে জীবাণু ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়।
টনসিল দেহের ইমিউনিটি ডেভেলপমেন্ট এর সাথে জড়িত একটি গ্ল্যান্ড। দেহের রগ প্রতিরোধ ক্ষমা ডেভেলপমেন্টে বিশেষ করে, ঠাডা প্রদাহ হতে দেহকে সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। কোন রোগীর দেহে ঠান্ডা - এলার্জি সমস্যা বৃদ্ধি পেলে, টনসিল এসবের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে। যত বেশী যুদ্ধ করতে হয়, সে তত বেশী নিজেকে তৈরী করতে থাকে, ততবেশী ফুলে উঠে। সূতরাং, কারো গলায় টনসিল যত বেশী বড় হবে, তখন বুঝতে হবে তার শরীরে কোল্ড এলার্জি বা ঠান্ডা সমস্যা তত বেশী আক্রমণ করেছে। টনসিল যত বেশী দিন ফুলা থাকবে, সে ততবেশীদিন উক্ত সমস্যায় জর্জরিত।
টনসিলাইটিস কি ?
টনসিল এর প্রদাহকে টনসিলাইটিস বলে।
ঠান্ডা সমস্যা বা কোল্ড এলার্জি আক্রমনের ফলে, টনসিল প্রতিরোধ করতে গিয়ে, টনসিলের নিজের যে ইনফেকশন বা প্রদাহ হয় তাকে টনসিলাইটিস বলে। এটা অবস্থা অনুসারে ধীরে বা খুব দ্রুত হতে পারে। এর স্থায়িত্ব অল্প বা দীর্ঘ দিন হতে পারে।
টনসিলাইটিস ২ প্রকার - ১) একিউট টনসিলাইটিস ২) ক্রণিক টনসিলাইটিস
১) একিউট টনসিলাইটিসঃ
হঠাৎ করে, অল্প কয়েকদিন ধরে, অল্প সময়ের জন্য টনসিলের ইনফেকশন বা প্রদাহ হলে তাকে একিউট টনসিলাইটিস বলে। ঠান্ডা থেকে নিজেকে নিরাপদ রাখলে, গরম পানি দিয়ে গলা গড়গড় করলে, গরম পানীয় পান করলে - এটা দ্রুত ভাল হয়ে যায়।
টনসিলের নতুন প্রদাহ ( Acute Tonsilities )
প্রদাহ একটি বা উভয় গ্রন্থিতে হতে পারে। আরক্ত, উত্তাপ, স্ফীতি সেই সাথে জ্বর, গাত্র বেদনা, মাথাধরা, দুর্গন্ধময় শ্বাস, গিলতে এবং শ্লেষ্মা তুলতে কষ্ট এই রোগের প্রধান লক্ষণ। টনসিলাইটিস ব্যাকটেরিয়া ঘটিত রোগ। স্ট্রেপটোকক্কাস হেমোলাইটিকাস নামক জীবাণু দ্বারা সংক্রমন হয়ে থাকে এবং সুপারীর মত বড় হয়। সাধারণত শিশু বেশী আক্রান্ত হয়। যে কোন বয়সের যে কেউ আক্রান্ত হতে পারে।
মাত্রাতিরিক্ত পরিশ্রম, অতিরিক্ত ঠান্ডার মধ্যে রাত জাগা, ঠান্ডা পরিবেশ , ঠান্ডা পানি ও খাবার গ্রহন করে গলায় ঠান্ডা লাগা, পুষ্টির অভাবে শরীরে ঠান্ডা সহ্য করার ক্ষমতা লোপ পাওয়া প্রভৃতি কারনে টনসিলাইটিস হবার আশংকা থাকে।
লক্ষণঃ
১। ঢোক গিলতে ব্যথা লাগে।
২। টনসিল লাল বর্ণের হয় এবং ফুলে উঠে।
৩। উচ্চজ্বর হতে পারে আবার জ্বর কম হতে পারে।
৪। টর্চ লাইট দিয়ে গয়াল্র ভিতরে পরীক্ষা করলে টনসিলের বৃদ্ধি দেখা যাবে।
৫। চোয়ালের নিচে টনসিলের লিম্ফ গ্ল্যান্ড বড় ও ব্যথাযুক্ত হয়।
৬। মাথা ধরা, শ্বাসকষ্ট, গিলতে কষ্ট, মুখ দিয়ে থুথু উঠা, শরীরে ব্যথা, স্বরভঙ্গ প্রভৃতি নানা লক্ষণ দেখা দেয়।
৭। অনেক সময় ব্যথা এত বেশী হয় যে, কোন কিছু গিলতে পারে না।
৮। টনসিলের আক্রমণে নিন্মোক্ত ব্যাধিসমূহ প্রকাশ পেতে পারে।যেমনঃ
ক) টনসিলের চারপাশে প্রদাহ হয়ে এবসেস গঠন করে পেরিটনসিলার এবসেস হতে পারে।
খ) টনসিলের পিছনের দিকে প্রদাহ হয়ে এবসেস গঠন করে রেটরোয়া রিঞ্জিয়াল এবসেস হতে পারে।
গ) জোড়ায় ব্যথা সহ ফুলে উঠতে পারে।
ঘ) টনসিল হতে সরাসরি রক্তে জীবাণু ছড়িয়ে সেপটিমিয়া হতে পারে।
ঙ) কিডনীর সদ্য প্রদাহ থাকতে পারে।
চ) টনসিলের সাথে কানের সাথে যুক্ত নল থাকায় ইনফেকশন কান পর্যন্ত যেতে পারে। বাচ্চাদের এই নল ছোট হওয়ায় যে সব বাচ্চা বা যারা ঘন ঘন সর্দি কাশি বা টনসিলাইটিসে ভোগে তাদের কান পাকা রোগ দেখা যায়।
২) ক্রণিক টনসিলাইটিসঃ
একিউট টনসিলাইটিস ভালো না হয়ে দীর্ঘদিন থাকলে তখন তাকে পুরাতন টনসিল বা ক্রোণিক টনসিলাইটিস বলে। এর বেশীরভাগ কারণ দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা অত্যন্ত দুর্বল হওয়া বা বিপর্যস্ত হুয়া। এটি একটি জেনেটিক রোগ।
টনসিলের পুরাতন প্রদাহ ( Chronic Tonsilities )
বার বার টনসিলাইটিসে আক্রান্ত হওয়ার ফলে ক্রণিক টনসিলাইটিস হয়। আবার কারো প্রথম কয়েকবার আক্রমনের পর রোগের প্রকোপ কমে গিয়ে মৃদুভাবে স্থায়ী হয়ে যায়। প্রথম দিকে টনসিলের আকার বৃদ্ধি পেলেও ধীরে ধীরে আকার ছোট হয়ে যায়। অনেকের টনসিলের উপরে মধ্যে মধ্যে ছিদ্র দেখা যায় এবং এর উপরে দুধের সরের মত সাদা দাগ পড়ে। আবার কয়েকটি দাগ একত্রিত হয়ে বড় দাগে পরিণত হয়। এর নাম ফলিকুলার টনসিলাইটিস।
লক্ষণঃ
১। প্রায়ই টনসিলের প্রদাহ হয়।
২। নিউরোসিস অবস্থার সৃষ্টি হতে পারে।
৩। টনসিল বড় হওয়ার কারনে শ্বাস-প্রশ্বাসে কষ্ট দেখা দেয়।
৪। অনেকের কোন প্রকার কষ্ট ছাড়াই টনসিলাইটিস হয়।
৫। চোয়ালের লিম্ফ গ্ল্যান্ড বর্ধিত অবস্থায় থাকে এবং শক্ত হয়।
৬। শরীরে তাপ থাকে। বার বার আক্রান্ত হওয়ার কারনে স্বাস্থ্য খারাপ হয় এবং রক্তহীনতা দেখা দিতে পারে।
জটিলতাঃ
টনসিলের পুঁজ পাকস্থলীতে গিয়ে পাকস্থলীতে পুরাতন প্রদাহ সৃষ্টি করতে পারে। টনসিলের পুরাতন প্রদাহের সাথে পেটে শূল ব্যথার মত ব্যথা দেখা দিতে পারে। এই রোগের ফলে রিউম্যাটয়েড আর্থ্রাইটিস নামক জোড়ায় ব্যাধি উৎপন্ন হতে পারে।
পথ্য ও আনুষঙ্গিক ব্যবস্থাঃ
১। সহজ, তরল ও পুষ্টিকর খাদ্য দিতে হবে।
২। ঠান্ডা লাগান যাবে না।
৩। দৈনিক ১ বার saline hot water দিয়ে গার্গল করলে এই অসুখের সম্ভাবনা কম থাকে।
পরামর্শঃ
টনসিল এর ব্যথা বা প্রদাহ বা টনসিলাইটিস হলে, এটাকে অপারেশন করে ফেলে দেয়ার প্রবণতা সবচেয়ে বেশী। একথা মনে রাখতে হবে যে, সৃষ্টিকর্তা আপনার দেহে যে সকল অঙ্গ প্রতঙ্গ দিয়েছেন তার সবই কোন না কোন কাজের জন্য দিয়েছেন। কোনটাই অপ্রয়োজনীয় নয়। তেমনি টনসিল আমাদের দেহে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে। তাই এটাকে কেটে ফেলে না দিয়ে, আগে থেকেই টনসিল সম্পর্কে সচেতন থাকতে হবে। বিশেষ করে ঠান্ডা পানি, ঠান্ডা খাবার ও ঠান্ডা পরিবেশ থেকে নিজেকে নিরাপদ রাখলেই টনসিলের সমস্যা থেকে মুক্ত থাকা যায়। টনসিল কেটে ফেলে দেয়ার পর শরীরে নানা রকম সমস্যা দেখা দেয়।
বর্তমানে অনেক অত্যাধুনিক চিকিৎসা আছে ও ঔষধ আছে। তাই টনসিল হওয়ার শুরুতেই এর চিকিৎসা নিলে ভাল হয়ে যায়। আর যাদের প্রায় বার বার অথবা কিছুদিন পরপর টনসিলে সমস্যা দেখা দেয়। তারা ঠান্ডা এড়িয়ে চললে এই সমস্যা থাকে না। আর যারা ঠান্ডা এড়িয়ে চলার পরেও বার বার আক্রমন করে তাদের জন্য হোমিওপ্যাথি চিকিৎসা নিলে আর সহজে টনসিল সমস্যা আক্রমণ করে না।
===================================================
টনসিলাইটিসের কারণ কি ?
কোন রোগীর সহজেই ঠান্ডা লেগে সমস্যা হলে তখন তাকে কোল্ড এলার্জি বলা হয়। এই রোগীদের অনেক সময় বিভিন্ন খাবারে এলার্জি থাকে। অনেকের ধূলাবালিতে এলার্জি থাকতে পারে। আমাদের দেহে কোন রোগের আক্রমণ হলে, দেহের আক্রান্ত অঙ্গ নানাবিধ লক্ষণ প্রকাশ করে আমাদেরকে তা জানান দেয়। আবার আমাদের রক্তের ইমিউনিটি সিস্টেম এই এলার্জির বিরুদ্ধে কাজ করতে গিয়ে নিজেকে ডেভেলপ করতে থাকে। নিজেকে সংখ্যায় বাড়াতে থাকে।
শরীরের এই স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতির অংশ হিসেবে - কারো গলায় টনসিল ফুলে উঠে কারো নাকের পলিপাস দেখা দেয়। এই রোগীদের রক্ত পরীক্ষা করলে, S. IGE বৃদ্ধি পাওয়া যায়। S. IGE নিজে কোন রোগ নয়। মূলত এলার্জির বিরুদ্ধে ফাইট করতে গিয়ে নিজেকে ডেভেলপ করতে গিয়েই রক্তের মধ্যে এর পরিমাণ বৃদ্ধি পায়।
কি কি লক্ষণ দেখা দেয় ?
১। সাধারণত গলার এক বা উভয় টনসিল বৃদ্ধি পায়।
২। ব্যথা অনুভব হয়।
৩। খাবার গিলতে কষ্ট হয়।
৪। সামান্য ঠান্ডা আবহাওয়া, ঠান্ডা পানীয়, ঠান্ডা খাবারে টনসিল ফুলে উথে, গলা ব্যথা করে।
৫। সামান্য ঠান্ডা, পানি বা বৃষ্টি তে সহজেই ঠান্ডায় আক্রান্ত হয়।
৬। সামান্য শীতে এমনকি গরম কালেও খুব কষ্ট পায়।
৭।। গায়ে জ্বর জ্বর ভাব থাকে।
৮। প্রায়ই হাঁচি সর্দি কাশি ইত্যাদি সমস্যায় ভুগতে থাকে।
প্রচলিত চিকিৎসা
১। অপারেশন
২। হোমিওপ্যাথি চিকিৎসা
১। অপারেশনঃ অপারেশন করার পরেও, গলা ব্যথা হয়। একেবারে নির্মুল হয় না। অনেকের অপারেসন এর পর আরো মারাত্মক অবস্থা দেখা দেয়।
২। একজন পিউর হোমিওপ্যাথ হতে চিকিৎসা গ্রহনে সম্পূর্ণ আরোগ্য লাভ হয়।
টনসিল অপারেশনের কুফল কি অথবা অপারেশনে ভালো হয় না কেন ?
এটা বুঝতে হলে, একটা বাস্তব উদাহরণ দেয়া যাক--
আপনার বাড়ির দরজায় একটা বিশ্বস্ত কুকুর বসে পাহারা দেয়। যখনি চোর আসে, তখনি সে ঘেউ ঘেউ করে আপনাকে জানিয়ে দেয় বাড়িতে চোর এসেছে। এখন এই ঘেউ ঘেউ করার কারণে আপনার ও আপনার বাড়ির সবাই বিরক্ত। সবাই মিলে সিদ্ধান্ত নিলেন, কুকুরটাকে মেরে ফেললেন। কিছুদিন পর বাড়িতে ডাকাত আক্রমণ করল, আপনারা সবাই ঘুমিয়ে থাকায় কিছুই টের পেলেন না। যখন টের পেলেন জেগে দেখলেন, আপনাদের হাত-পা বেধে রেখে, ঘরের সব জিনিসপত্র ডাকাতি হয়ে গেছে। এবার আপনি এবং বাড়ির সবাই একে অপরকে দোষারোপ করা শুরু করল। এবং বলতে থাকল, আজ কুকুরটা থাকলে, এই ডাকাতি হবার আগেই সে ঘেউ ঘেউ করে আমাদের জানিয়ে দিত। সে আমাদের বিশ্বস্ত পাহারাদার ছিল। পরে, আবার আরেকটি কুকুর আনা হল।
ঠিক একইভাবে টনসিল আপনার দেহকে পাহারা দেয়। ঠান্ডা আক্রমণ করলে সে ফুলে উঠে আপনাকে জানিয়ে দেয় যে, আপনি ঠান্ডার চিকিৎসা করেন। কিন্তু আপনি ঠান্ডার চিকিৎসা না করে, বরং টনসিল কেটে ফেলে দিলেন। কিছুদিন পর থেকে আপনার দেহে আরো ভয়াবহ অবস্থা দেখা দিল, আপনি প্রায়ই অসুস্থ থাকেন, কিন্তু টনসিল না থাকায়, সেটা জানান দেয়ার মত আর কেউ রইল না। গল্পে নতুন আরেকটি কুকুর আনা সম্ভব হলেও, বাস্তবিক জীবনে, টনসিল কেটে ফেলার পর নতুন করে আর টনসিল লাগানো সম্ভব হয় না।
আশা করি, আমরা টনসিল অপারেসনের কুফল অপকারিতা জানতে পারলাম। তাই টনসিল অপারেশন সমাধান নয়। কোল্ড এলার্জির চিকিৎসা করা হল - মুল সমাধান।
দুক্ষজনক হল, হোমিওপ্যাথি ব্যতীত অন্য কোন প্যাথিতে কোল্ড এলার্জির ঔষধ এখনো আবিষ্কার হয় নাই। তাছাড়া এটি একটি জেনেটিক ডিসঅর্ডার, জেনেটিক ডিজিজ, বংশগত সমস্যা।
হোমিওপ্যাথি চিকিৎসা কিভাবে কেমন ?
হোমিওপ্যাথিতে কোন চিকিৎসক যদি আপনাকে শুধুমাত্র টনসিলের চিকিৎসা দেয়, নিশ্চিত জেনে রাখুন তিনি অদক্ষ এবং তার এ বিষয়ে লেখাপড়া নাই।
টনসিলাইটিস নিজে কোন রোগ নয়। এটি কোল্ড এলার্জির একটি উপসর্গ মাত্র। সেহেতু, আপনাকে কোল্ড এলার্জির জন্য ধাতগত উপযুক্ত চিকিৎসা দেয়া সম্ভব হলে, আপনি আরোগ্য লাভ করবেন।
হোমিওপ্যাথি কাজ করে বুঝবেন কিভাবে ? চিকিৎসা প্রসিডিউর কি ?
আপনি যদি পিউর হোমিওপ্যাথ হতে চিকিৎসা নেন, তাহলে, টনসিল ভালো হবার পাশাপাশি আপনার ঠান্ডা জনিত সমস্যা চলে যাবে। অর্থাৎ, আপনার কোল্ড এলার্জি ভালো হয়ে টনসিল ভালো হয়ে যাবে।
---------------------------------------------------------
#কিছু কমন প্রশ্ন-উত্তরঃ
---------------------------------------------------------
১) টনসিলাইটিস বা কোল্ড এলার্জির চিকিৎসার জন্য আমি কখন হোমিওপ্যাথি ঔষধ খেতে পারব ?
উত্তরঃ রোগের যে কোন অবস্থায় - আপনি হোমিওপ্যাথি চিকিৎসা নিতে পারেন।
২) আমার টনসিল অল্প বৃদ্ধি পেয়েছে বা অনেক বেশী বড় হয়ে গলা বন্ধ হয়ে গেছে, হোমিও চিকিৎসায় কাজ হবে ?
উত্তরঃ যত দ্রুত হোমিও চিকিৎসা, নিবেন তত দ্রুত আরোগ্য।
৩) আমাকে অপারেশন করতে পরামর্শ দেয়া হয়েছে, হোমিও তে কি কাজ হবে ?
উত্তরঃ অবশ্যই, কাজ হবে। অপারেশন করার আগে অন্তত একটু হোমিও চিকিৎসা নিয়েই দেখুন। আপনাকে আর অপারেশন করতে হবে না। ইনশাআল্লাহ।
৪) আমি অপারেশন করেছি, তবুও ভালো হয় নাই, আমি কি হোমিও চিকিৎসা নিতে পারব ?
উত্তরঃ অবশ্যই পারবেন। কোল্ড এলার্জি ঠিক হয়ে যাবে।
৫ ) আমার মাঝে মাঝে জ্বর জ্বর লাগে -- কেন ?
উত্তরঃ কোল্ড এলার্জির রোগীদের চাপা জ্বর থাকে। এটাও ভালো হয়ে যাবে।
৬) কোল্ড এলার্জি বুঝার জন্য টেস্ট কি ?
উত্তরঃ S. IGE
৭) এলোপ্যাথি ঔষধ এর সাথে কি হোমিও ঔষধ খাওয়া যাবে ?
উত্তরঃ খাওয়া যাবে, কোন সমস্যা নাই।
৮) আমি জীবনে হোমিও খাই নাই, আমাকে কি হোমিও ঔষধে কাজ করবে ?
উত্তরঃ কাজ করবে, কোন সমস্যা নাই।
৯) আমাকে অমুক তমুক বলেছে, এলোপ্যাথি আর হোমিওপ্যাথি একসাথে খেলে দুইটায় মারামারি করে একটাও নাকি কাজ করবে না - এটা কি সত্য ?
উত্তরঃ কথাটি সত্য নয়, এটা মুলত আগেকার আমলের চিকিৎসকদের কুসংস্কার। আমি প্রচলিত চিকিৎসার পাশাপাশি হোমিও ঔষধ সেবন করিয়ে ভালো ফলাফল পাচ্ছি, এমনকি এন্টিবায়োটিকের পাশাপাশি হোমিও ঔষধ সেবন করিয়ে ভালো ফলাফল পাওয়া গেছে, প্রমাণিত। এক সময় রোগী ভালো হতে থাকলে, অন্যপ্যাথির ঔষধের ডোজ কমতে থাকে, হোমিও ঔষধের ডোজ বাড়তে থাকে। পরবর্তীতে, অন্য ঔষধ বাদ হয়ে যায়, শুধু হোমিওপ্যাথি চলতে থাকে।
১০) হোমিওপ্যাথিতে টনসিল কি ভালো হয় ?
উত্তরঃ ১০০% সম্পুর্ণ আরোগ্য লাভ হয়।
১১) টনসিল ভালো হতে কতদিন সময় লাগবে ?
উত্তরঃ এটা নির্ভর করবে, আপনার ইমিউনিসিস্টেম এর কর্ম দক্ষতা মানে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার উপর। আপনার রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা যত বেশী ক্ষতিগ্রস্থ থাকবে, তত বেশী সময় লাগবে। তাই, সুনির্দিষ্ট করে বলা সম্ভব নয়। আনুমানিক, ১-৬ মাস বা তার বেশী সময় ধরে চিকিৎসা নিতে হয়।
১২) ওরে বাপরে, এতো সময় নিয়ে এত ধিরে হোমিও কাজ করে ?
উত্তরঃ যে খানে জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত এই সমস্যায় ভুগতে হয়, সেখানে ১-৬ মাস যদি আপনার কাছে অনেক বেশী সময় মনে হয়, তাহলে আমার কিছুই বলার নাই। আপনিই সিদ্ধান্ত নিবেন, আপনি সারাজীবন কষ্ট ভোগ করবেন নাকি, কয়েকটা মাস চিকিৎসা নিবেন। যেখানে আধুনিক এলোপ্যাথি চিকিৎসা ব্যবস্থায় এর কোন চিকিৎসা নাই, সেখানে লেটেস্ট প্রযুক্তির হোমিওপ্যাথি তে আপনি মাত্র কয়েক মাসে সুস্থ হতে পারছেন। এটাই অনেক প্রাপ্তি।
১৩) হোমিও ঔষধ কীভাবে কাজ করে ?
উত্তরঃ হোমিওপ্যাথি মেডিসিন, আপনার দেহের ইমিউনিসিস্টেম কে ডেভেলপ করবে অর্থাৎ, আপনার রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করবে। এরপর, আপনার ঠান্ডা সমস্যার সমাধান করবে। এর মাঝেই টনসিল আরোগ্য হবে।
১৪) আমাকে নাক কান গলা বিশেষজ্ঞ বলেছেন, টনসিল বড় হয়ে গেছে, পুঁজ হয়ে গেছে, পেকে গেছে, - অপারেসন করতে বলেছে, এটা কি সত্যি যে, এভাবে পুঁজ হয়, পেকে যায় ?
উত্তরঃ এটা সত্যি। দীর্ঘদিন ধরে টনসিলের ইনফেকশনের কারণে পুঁজ হয় পেকে যায়, গর্ত হয়ে যায়, ইত্যাদি। এটা দীর্ঘদিনের ইনফেকসনের ফলাফল। অন্য চিকিৎসা ব্যবস্থায় এই বিষয়গুলো নিয়ে রিসার্চ করে এখনো পর্যন্ত কার্যকরি কোন ঔষধ আবিশকার হয় নাই, তাই তারা এটাকে অপারেসনের পরামর্শ দিয়ে থাকে। যা সম্পুর্ণ ভুল চিকিৎসা পদ্ধতি।
১৫) আমি এক হোমিও চিকিৎসকের কাছে গিয়েছিলাম, তিনি আমাকে জার্মানি টনসিলের ঔষধ দিয়েছেন, তবুও ভালো হয় নাই - কেন ?
উত্তরঃ টনসিলের ঔষধ নামে যে ঔষধ, সেটা একটা অস্থায়ী প্রাথমিক চিকিৎসা মাত্র। এতে কারো উন্নতি হতেও পারে নাও হতে পারে। উক্ত চিকিৎসক আপনাকে নগদ চিকিৎসা দিয়েছেন মাত্র। তাই ভাল হয় নাই। আপনার জন্য প্রয়োজন, ধাতগত মায়াজম ভিত্তিক কোল্ড এলার্জির পুর্ণাংগ চিকিৎসা। যারা এই ধরনের চিকিৎসা দিচ্ছেন, তারা প্রকৃতপক্ষে চিকিৎসা বুঝেন না বিধায় সাময়িক উপশমকারি কিছু ঔষধ দিয়ে চিকিৎসা করছেন। এটা হোমিওপ্যাথির ব্যর্থতা নয়। এটা উক্ত চিকিৎসকের ব্যর্থতা। আর একজন চিকিৎসকের ব্যর্থতা দিয়ে কখনোই সুপ্রতিষ্ঠিত একটি চিকিৎসা ব্যবস্থাকে মূল্যায়ন করা যাবে না।
১৬) আমি কখন একজন হোমিও চিকিৎসক পরিবর্তন করব ?
উত্তরঃ একজন দক্ষ হোমিও চিকিৎসকের নিকট থেকে চিকিৎসা নিলে, শুরু থেকেই আপনি আপনার অগ্রগতি বুঝতে পারবেন। সে ক্ষেত্রে পুরাতন রোগে কয়েক মাস সময় দেয়া যেতে পারে। এতে আরোগ্য না হলে, আপনি চিকিৎসক পরিবর্তন করুন।
১৭) আমি কখন বুঝব, আমি সঠিক হোমিও চিকিৎসা পাচ্ছি না, বা চিকিৎসক ত্যাগ করা জরুরী ?
উত্তরঃ কোন চিকিৎসকের চেম্বারে গিয়ে যখন দেখবেন, হোমিওপ্যাথি, এলোপ্যাথি, আয়ুর্বেদিক, কবিরাজি, হার্বাল ইত্যাদি বাহারি সিরাপ শোভা বর্ধন করছে, তখনই উক্ত চিকিৎসক বর্জনীয়।
১৮) হোমিও চিকিৎসক শুধু পানি দিচ্ছেন, এটা তে কি রোগী ভালো হবে ?
উত্তরঃ রেক্টিফাইড স্পিরিট বা এলকোহল এর ক্ষতি এড়াতে একজন বিবেকবান চিকিৎসক ভালো ফলাফলের জন্য ডিস্টিলড ওয়াটারে ঔষধ মিশিয়ে দিয়ে থাকেন। এটাকে সাধুবাদ জানাবেন। চিকিৎসক কি দিচ্ছেন, সেটা জরুরী নয়, আপনার আরোগ্য লাভ জরুরী। তবে সচেতনতার স্বার্থে বড় বড় সিরাপের বোতল থেকে দূরে থাকুন।
( এই পোস্টে মেডিক্যাল টার্ম বাদ দিয়ে সাধারনের উপযোগী করে লিখা হয়েছে। না বুঝে কেউ কোন প্রকার বিরূপ মন্তব্য থেকে দূরে থাকুন। আপনি কোন কিছু না বুঝলে, সরাসরি আমার চেম্বারে দেখা করুন। )
বিদ্রঃ হোমিওপ্যাথি তে কোল্ড এলার্জি আরোগ্য হয়। আপনার যাবতীয় চিকিৎসা রিপোর্ট নিয়ে যোগাযোগ করুন। আপনার আগের চিকিৎসক পর্যাপ্ত পরীক্ষা না করিয়ে থাকলে প্রয়োজনে আপনাকে কিছু ডায়াগনোসিস পরীক্ষা করতে দেয়া হতে পারে।
#অব্যর্থহোমিও তে আমি হোমিওপ্যাথি নীতিতে কিভাবে চিকিৎসা করিঃ
----------------------------------------------------------
১) পূর্ণাঙ্গ রোগীলিপি প্রণয়ন।
২) প্রয়োজনীয় ডায়াগনস্টিক টেস্ট রিপোর্ট এনালাইস
৩) অন্য কোন রোগ থাকলে তার সমাধান করা।
যোগাযোগঃ
----------------------------------------------------------
হোমিওপ্যাথ ডাঃ মোঃ জাকির হোসেন মাসুদ
( ফুলটাইম ডেডিকেটেড প্রফেশনাল হোমিওপ্যাথ রিসার্চার রাইটার )
অব্যর্থ হোমিও
সুফিয়া বেকারি মোড়
দক্ষিণ রাজাশন
সাভার, ঢাকা
মোবাইলঃ ০১৭১১-২০১০১৮, 01711201018
আমাকে ফলো করতে পারেনঃ
ফেসবুকে --
https://web.facebook.com/ObarthoHomeo
ওয়েবসাইটে --
https://www.allmedicin.com/obarthohomeo
এমন আরো লিখা পেতে ভিজিট করুন--
https://allmedicin.com/article_am.php
--------------------------------------------------------
সর্বশেষ আপডেট 16-03-2023 - 9:10 am
01711201018 Bkash এ 2050 Taka সার্ভিস চার্জ ( ভিজিটিং ফী, ২৪ ঘন্টা সার্বক্ষণিক অনলাইন সাপোর্ট সার্ভিস, হট লাইন সাপোর্ট সার্ভিস ) বাবদ পে করে 01711201018 WhatsApp এ মেসেজ দিন। আপনার অনলাইন এপয়েন্টমেন্ট এর জন্য সকল রিপোর্ট এর ছবি দিন। কোন টেস্ট দরকার হলে করতে দেয়া হবে। এরপর সকল রিপোর্ট সহ সরাসরি চেম্বারে বা অনলাইনে রোগী দেখান। কুরিয়ারে ঔষধ পাঠিয়ে দেয়া হবে।
সার্ভিস চার্জ শুধু মাত্র ১ বার নেয়া হয়। ঔষধ খরচ আলাদা।
সরাসরি চেম্বারঃ অব্যর্থ হোমিও, সুফিয়া বেকারি মোড়, সাভার, ঢাকা।
অনলাইন চেম্বারঃ 01711201018 WhatsApp